‘‌মনুষ্যত্বই পরম ধর্ম, যা বাকি সব কিছুর ঊর্ধ্বে’, মৌলবাদীদের মোক্ষম জবাব মীরের

‘বসুধৈব কুটুম্বকম’৷ যার অর্থ এই বসুন্ধরা কিংবা গোটা পৃথিবীই প্রকৃতপক্ষে একটি পরিবার। সংস্কৃত বাগধারা। আদতে সমগ্র মানবজাতিকে একটি গোটা পরিবার হিসেবে বোঝাতেই ব্যবহৃত হয় ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ প্রবাদটি। মানব ধর্মই যে শ্রেষ্ঠ ধর্ম- একথার উল্লেখ বেদ-বেদান্ত, উপনিষদ কিংবা যে কোনও ধর্মগ্রন্থে মিললেও বাস্তব চিত্র কিন্তু পুরোটাই আলাদা! দেশে দেশে আজ হানাহানি, যুদ্ধ, রক্তারক্তি, সাম্প্রদায়িকতার ঝান্ডাধারীদের তাণ্ডবে বিপন্ন মানবজাতি। তাই তো এখনও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনও মুসলিম যদি হিন্দুর ঘরে খেতে বসে ছবি তোলে এদিক-ওদিক থেকে ‘জাত গেল-জাত গেল’ করে রবে ওঠে। প্রশ্ন তোলা হয় তাঁর ধর্ম-দর্শন নিয়েও! দিন দুয়েক আগে ঠিক এমনটাই হয়েছে মীর আফসার আলির সঙ্গে।

 

গত ৬ জানুয়ারি ছিল এআর রহমানের জন্মদিন। অতঃপর খ্যাতনামা সংগীতকারকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য তাঁর সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন মীর। ছবির ক্যাপশনে মীর লিখেছিলেন, “যেদিন ঈশ্বরের পাশে বসেছিলাম।” আর এতেই চারদিক থেকে ‘ধর্মভেদী’ নামক বাণ ধেয়ে আসে তাঁর দিকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় জনৈক ব্যক্তি মীরের নমাজ পড়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। মীরও মোক্ষম জবাব দেন- “আমি রেডিও করি। আমার মসজিদের নাম মিরচি।” এরপর ‌ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে মীরের যথাযথ জ্ঞান আছে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নেটিজেনদের একাংশ। ব্যস! এতেই বেজায় চটে যান খ্যাতনামা সঞ্চালক তথা অভিনেতা। সপাটে পালটা ধর্মীয় মৌলবাদীদের দিকে বাক্যবাণ চালান তিনিও।

 

মীর লেখেন, “‌মনুষ্যত্বটাই যে পরম ধর্ম এবং সেটা যে বাকি সব কিছুর ঊর্ধ্বে, সেটা বুঝতে তোমার আরও কয়েক জন্ম লাগবে। অবশ্য পরের বার তুমি যদি আদৌ ফেরত আসো। মানুষ হিসেবেই যে ফিরবে তার কিন্তু কোনও নিশ্চয়তা নেই! কারণ এই জন্মে তুমি খুব একটা নম্বর তুলতে পারোনি এখনও পর্যন্ত!”

‌সেই বাক্যবজ্র কিন্তু এখানেই ইতি টানেনি। পালটা ওই যুবক ফের মীরকে লেখেন, “যতটুকু জানি আপনার ধর্ম ইসলাম। এই জন্মে আপনিও ইসলাম শিক্ষা পরীক্ষায় ভাল নম্বর তুলতে পারেননি।”‌ যার জবাবে আরও একধাপ এগিয়ে জবাবে মীর বলেন, “ইসলাম আমার ধর্ম নয়। ওটা মনুষ্যত্ব। কিন্তু তুমি সেটা বোঝার মতো পরিস্থিতিতে নেই। আর মৃত্যু আমাদের সকলেরই একদিন হবে।” প্রসঙ্গত, এর আগেও বাবাকে ঈশ্বরের আসনে বসিয়ে মৌলবাদীদের রোষানলে পড়েছিলেন মীর। সত্যিই তো, একজন শিল্পীর কাছে মানবতার গান কিংবা মনুষ্যত্বই তো বড়! জাত-ধর্ম দিয়ে তো আর দু’মুঠো অন্নসংস্থান হয় না! কথায় কথায় মৌলবাদীদের সপাটে চড় কষিয়ে ঠিক এই বিষয়টিই আরও একবার স্পষ্ট করলেন মীর।